রতনপুরের চন্দ্রকান্ত সাধারণ যুবক। রূপে গুণে মেধায় যতটুকু ঋদ্ধ হলে জীবন চলে, তার অধিক তার নেই। এ বিষয়ে কোনও আক্ষেপও তার নেই। শৈশবে মাতৃহারা সে ঈর্ষা জানে না, সন্দেহ জানে না, মিথ্যাভাষণে পীড়িত বোধ করে। চাকরির বাধ্যতায় চন্দ্রকান্ত রতনপুর ছেড়ে কলকাতায় যাত্রা করল। সেখানে সপ্তার্চিসের গৃহে তার নতুন জীবন। সেই পরিবারে সে যাকে বলে, ‘পেয়িং গেস্ট’ হয়েও ঘরের ছেলে। রুচিতে, মননে, সৌন্দর্যে এই পরিবার তার জগতের থেকে পৃথক শুধু নয়, তার বিচারে উচ্চতর, চিত্তমুগ্ধকর। বিমাতার শিক্ষা, অনূঢ়া পিসিমাদ্বয়ের স্নেহ, পিতার শাসনে অভ্যস্ত চন্দ্রকান্ত রতনপুরের জীবনকে সইয়ে নিতে লাগল এই পরিবারের চালচিত্রে। সম্পূর্ণ দুই ভিন্নধর্মী পারিবারিকতার মাঝখানে সে জটিল মানবচরিত্রের একজন বিস্মিত আবিষ্কর্তা। এই আবিষ্কার পালটে দিতে পারল কি চন্দ্রকান্তর নিজস্ব হৃদ্সম্পদ— তারই আলেখ্য এই উপন্যাস।